|
ধ্বংসাত্মক কাজে নয় সৃষ্টিতে হোক প্রযুক্তির ব্যবহার
মো. জাহিদুল ইসলাম:
|
![]() ধ্বংসাত্মক কাজে নয় সৃষ্টিতে হোক প্রযুক্তির ব্যবহার কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে আজ এই ডিনামাইট ব্যবহার হচ্ছে প্রতিশোধপরায়ণ কাজে ও ধ্বংসাত্মক তান্ডবলীলায়। একইভাবে বিশ্বকে আধুনিক বিশ্বে রূপায়িত করতে যেসব ডিজিটাল ডিভাইস আবিষ্কার করা হয়েছে তারও এখন ঘটছে অপপ্রয়োগ। চলতি শতাব্দীকে বলা হয় বিজ্ঞানের শতাব্দী। গত শতাব্দী থেকে বর্তমান বিজ্ঞান তার ৯৯% আবিষ্কার করেছে। পূর্বে যা আবিষ্কৃত হয়েছে, সেসব খুবই সাধারণ জিনিসপত্র ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের উদ্ভাবনগুলো এতোটাই উন্নত যে অতীতে এইসব মানুষের কল্পনা এবং ক্ষেত্রবিশেষে কল্পনার বাইরে ছিল। আজকের প্রযুক্তির এ যুগে যে জাতি প্রযুক্তিতে যত বেশি দক্ষ সে জাতি তত উন্নত। বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই ভবিষ্যৎদ্বাণী করেছিলেন আগামীতে যুদ্ধ হলে তা হবে ‘প্রযুক্তি যুদ্ধ’। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির এই যুদ্ধে মানুষের অংশগ্রহণের তেমন প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। যুদ্ধ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট কিংবা যুদ্ধাস্ত্র। উন্নত প্রযুক্তি সাহায্যে একদিকে যেমন মুমূর্ষূ রোগীকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির লাইফসাপোর্টের মাধ্যমে বাঁচিয়ে তোলা হচ্ছে অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ড্রোন যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে হামলা চালাচ্ছে। প্রযুক্তির এই অভাবনীয় অগ্রগতি একদিকে যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে তেমনি এর অপব্যবহারও জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মানুষের সদিচ্ছা প্রবল হলেও দিন দিন প্রযুক্তির ‘ইভিল জিনিয়াস’ বা ক্ষতিকর বুদ্ধিও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির এ দুর্দান্ত প্রতাপ কিন্তু সবসময়ই মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনেনি। প্রযুক্তির কোনোটি যেমন আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে আবার কোনোটি আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রভাবে সভ্যতার যেমন উন্নতি হয়েছে, আবার কোন কোন প্রযুক্তি বস্তুর অপব্যবহার হুমকিস্বরূপ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের ইতিহাস থেকে জানা যায় বিগত সাড়ে পাঁচ হাজার বছরে পৃথিবীর বুকে মোট যুদ্ধ হয়েছে ১৪৫০০টি, প্রাণ হারিয়েছে ৪০০ কোটি মানুষ। বর্তমান শতাব্দীর যুদ্ধের অন্যতম হাতিয়ার হলো চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন। গত শতাব্দী থেকেই সামরিক পরাশক্তিরা যুদ্ধে মনুষ্যবিহীন যুদ্ধ এবং সেনাদের আরও নিরাপদে রাখার তাগিদে নানা ধরনের নতুন প্রযুক্তির দ্বারস্থ হতে শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে আসে আজকের চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির নিত্যনতুন ব্যবহারে সারা বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই আমরা নেমেছি এর অপব্যবহারের প্রতিযোগিতায়। প্রযুক্তির অপব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি আবিষ্কার করা হয় মানুষের কল্যাণে। কিন্তু মানুষের অকল্যাণেও প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র কখনোই মানুষের কল্যাণের জন্য নয়। আবার নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য এগুলোর প্রয়োজন রয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রসরতা মানুষ কখনোই অস্বীকার করে না এবং করার উপায়ও নেই। তবে এর আবিষ্কার ও অগ্রসরতার সাথে সাথে ক্ষতিকর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের আবশ্যকতা রয়েছে। এটা না হলে প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে মানবসভ্যতায় বিপর্যয় নেমে আসবে। ইতোমধ্যে এই ধরনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় বিশ্বে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে বিভিন্ন আইন রয়েছে। এ আইনের সহায়তায়ও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন আইন করা যেতে পারে। আইনের যথাযথ ব্যবহার যেমন প্রত্যাশিত, তেমনি আইনের অপপ্রয়োগও নিন্দনীয়। তবে দেশ, সম্পদ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর তথা ধ্বংসাত্মক তৎপরতাকে উৎসাহিত করে এমন যে কোন উদ্যোগ ও প্রয়োগকে অবশ্যই নিরুৎসাহিত করা অত্যাবশ্যক। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির অসীম জগত সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এবং এর পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো দক্ষ লোকবল তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। তথ্য প্রযুক্তির কথা বললেই আমাদের সামনে ভেসে উঠে আধুনিক বিশ্বের যান্ত্রিক উপাদান আর উপকরণের কথা। যার মাধ্যমে মানব জীবনকে করা হয়েছে সহজ ও আরামদায়ক। প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিটি জিনিস তৈরির মূলে নিহিত আছে মানব সমাজের কল্যাণ। কিন্তু আমরা মানব সমাজ তাকে এমনভাবে ব্যবহার করি যা আমাদের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনছে। তথ্য প্রযুক্তির উপকরণগুলো ব্যবহার করার জন্য আমাদের উচিত এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আগামীর প্রজন্মকে রক্ষা করতে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের দিকেই সকল সচেতন নাগরিককে মন ও মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। মানবতাকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য অস্ত্র ব্যবস্থায় নয়, বরং মানুষের কল্যাণে কৃষি-চিকিৎসা, মহাকাশ অন্বেষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ মানবজাতির সুবিধার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপকারী প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আজকের বিশ্ব বিজ্ঞানের বিশ্ব। বিজ্ঞানের কল্যাণে সুদূর অতীত থেকে নানা কিছু আবিষ্কার হচ্ছে। বিদ্যুৎ, কম্পিউটার, মোবাইল প্রভৃতি বিজ্ঞানের যুগান্তকারী আবিষ্কার। এসব আবিষ্কার প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। এখন কোয়ান্টাম কম্পিউটার আবিষ্কারের পথে বিজ্ঞানীরা। প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীকে এগিয়ে নিতে হবে। মানুষের কল্যাণে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে।
লেখক : নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। ডেল্টা টাইমস/মো. জাহিদুল ইসলাম/সিআর/এমই |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |