বার্ড ফ্লু সচেতনতায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
রেহানা ফেরদৌসী:
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১৬ এএম

বার্ড ফ্লু সচেতনতায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

বার্ড ফ্লু সচেতনতায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

পশুপাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বার্ড ফ্লু ভাইরাস যদি মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর মতো সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে তা বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯- এর চেয়েও ভয়াবহ মহামারী ডেকে আনতে পারে। ফ্রান্সের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের শ্বাসতন্ত্র বিষয়ক সংক্রমণ কেন্দ্রের প্রধান এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

বার্ড ফ্লু (এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা) ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে একটি রোগ। এর জীবাণু বার্ড ফ্লু আক্রান্ত হাঁস-মুরগি বা অন্যান্য পাখির মল, রক্ত ও শ্বাসনালীতে বাস করে। শীত মৌসুমে বাংলাদেশে বার্ড-ফ্লু’র সংক্রমণ ঘটে বেশি। ২০০৬ সালে বাংলাদেশে প্রথম এ ফ্লু’র সংক্রমণের শিকার হয়।

মানুষ ঘটনাচক্রে এ রোগে আক্রান্ত হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সংক্রমণই ঘটেছে তাদের যারা আক্রান্ত পাখি জবাই বা পালক ছাড়ানোর জন্য নাড়াচাড়া করেছেন। আবার যেসব শিশু আক্রান্ত পাখি বা মৃত হাঁস-মুরগি নিয়ে খেলা করে তাদেরও এ রোগ হতে পারে। এ রোগটি সাধারণত শুরু হয় জ্বর-সর্দি-কাশির মাধ্যমে এবং পরে তা মারাত্মক নিউমোনিয়ার রূপ ধারণ করে, যার পরিণতি হচ্ছে মৃত্যু। যদিও এটি মূলত পাখিদের রোগ তবে বার্ড ফ্লু মানুষেরও হতে পারে।

বার্ড ফ্লু মানুষের মধ্যে ছড়ানোর কারণ:

●    সংক্রামিত পাখির সংস্পর্শ
●    দূষিত স্থান
●    খাদ্য

মানুষের শরীরে বার্ড ফ্লু এর লক্ষণ :

মানুষের মধ্যে বার্ড ফ্লুর লক্ষণ ও উপসর্গগুলি বিভিন্ন রকমের বলে জানা গেছে। ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে চোখ লাল হয়ে যাওয়া একটি প্রধান লক্ষণ। শ্বাসকষ্টের লক্ষণ এবং জ্বর আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও বার্ড ফ্লু রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, ডায়রিয়া, কাশি, গলা ব্যথা, পেশী ব্যথা, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট। লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লু-এর মতো হতে পারে তবে কিছু ক্ষেত্রে তা গুরুতরও হতে পারে। সংক্রমণের লক্ষণগুলো হালকা থেকে গুরুতর পর্যন্ত হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

সতর্কতা রক্ষায়:

●  আক্রান্ত বা সন্দেহজনক পাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে ।
●  হাঁস-মুরগির মাংস ও ডিম ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে ।
●  ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে ।

যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামিত বা সম্ভাব্য সংক্রামিত পাখি বা প্রাণীর সংস্পর্শে আসার পর উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলো অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত একজন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে যোগাযোগ করা উচিত। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হবে ।

বার্ড ফ্লু প্রতিরোধের জন্য খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হয় যে তারা অসুস্থ পাখি শনাক্ত করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং সুস্থ পাখিদের টিকা দেবে। সাধারণ ফ্লু টিকা প্রতি বছর নেওয়া ভালো, যা ফ্লু থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

হাঁস-মুরগি বা অন্যান্য পাখি ধরাছোঁয়ার পর যদি কেউ জ্বর-সর্দি-কাশি জাতীয় কোনো রোগে ভোগেন তবে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্র/হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতে হবে। রোগে আক্রান্ত বা মৃত হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে আসার বিষয়টিও তাদের জানাতে হবে।

আতঙ্কিত না হয়ে, সচেতনতার সাথে এখনি বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।

লেখক: সহ সম্পাদক,সমাজকল্যাণ বিভাগ, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ডেল্টা টাইমস/রেহানা ফেরদৌসী/সিআর/এমই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]