গৌরবের মাস ডিসেম্বর
রেহানা ফেরদৌসী:
প্রকাশ: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৩১ পিএম

গৌরবের মাস ডিসেম্বর

গৌরবের মাস ডিসেম্বর

আজ ১ ডিসেম্বর। শুরু হলো মহান বিজয়ের মাস। বাঙালির সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ঘটনা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বপ্নসাধ পূরণ হয় এই মাসে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং কয়েক লাখ মা–বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা।

মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। সেই গৌরবদীপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় আসে এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয়ের সুযোগ লাভ করে বাঙালিরা। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের যে ভিত্তি থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তা এ দিন পূর্ণতা পায়। ডিসেম্বর তাই গৌরবের পাশাপাশি বেদনার মাসও।

এই মাসেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাদের সহযোগীদের নিয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান—বুদ্ধিজীবীদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। সমগ্র জাতিকে মেধাশূন্য করতে পরিচালিত এমন বর্বর হত্যার দ্বিতীয় কোনো নজির বিশ্বের ইতিহাসে নেই।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর অংশগ্রহণে গঠিত যৌথবাহিনীর জল, স্থল ও আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল দিন। সেদিন দিল্লিতে রাজ্যসভার অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর বক্তৃতায় উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সেনা অপসারণই সমস্যার সর্বোত্তম সমাধান। ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এদিনই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ভেতরে গেরিলা আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব সেনাদের নির্দেশ দেয় আরও ভয়াবহভাবে নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে। বুড়িগঙ্গার ওপারে জিঞ্জিরায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একদিনে ৮৭ জনকে হত্যা করা হয়। বাঙালির স্বাধীনতার লড়াইকে আড়াল করতে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে বেতারে ঘোষণা দেয় ইয়াহিয়া খান।

কিন্তু তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই বাঙালিকে বিজয়ের পথ থেকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি। ধীরে ধীরে মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের স্বাদ পেতে শুরু করে। পাকিস্তানি বাহিনী শেষ মুহূর্তে হত্যাযজ্ঞ চালালেও বীর বাঙালি দমে যায়নি। অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই ১৬ ডিসেম্বর এনে দেয় চূড়ান্ত বিজয়।

প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্তানি হানাদাররা আত্মসমর্পণের পথ খুঁজতে থাকে। বাংলাদেশ দ্রুত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যায়। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ অর্জন করে নিজস্ব ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব আর সবুজের বুকে লাল সূর্যখচিত জাতীয় পতাকা।

প্রতি বছরের মতো এবারও বিজয়ের মাস নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে। বিজয়ের এ মাসে বিজয়ের আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ!


লেখক: সহ সম্পাদক,সমাজকল্যাণ বিভাগ, 
পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।


ডেল্টা টাইমস্/রেহানা ফেরদৌসী/সিআর/আইইউ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]