|
লেপের ভেতর মুখ ঢেকে ঘুমানো কি নিরাপদ? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
ডেল্টা টাইমস্ ডেস্ক;
|
![]() লেপের ভেতর মুখ ঢেকে ঘুমানো কি নিরাপদ? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ ঢেকে ঘুমালে বাতাস চলাচল কমে যায়, ফলে নাক-মুখের আশেপাশে কার্বন ডাই-অক্সাইড জমে অক্সিজেন গ্রহণ কমে যায়। এতে শ্বাসযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, ঘুমের মান খারাপ হয় এবং মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও অস্থির ঘুমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই হাঁপানি, সিওপিডি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি আরও বিপজ্জনক। কী ঘটে মুখ ঢেকে ঘুমালে? লেপ-কম্বল মাথা পর্যন্ত টেনে দিলে ভেতরে একটি ছোট বন্ধ পরিবেশ তৈরি হয়। গবেষণা বলছে—এ অবস্থায় ‘রিবারিদিং রেট’ বেড়ে যায়; অর্থাৎ ব্যক্তি নিজের নিঃশ্বাসে বের হওয়া বাতাসই আবার শ্বাস নেন। এতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং অক্সিজেন কমে যায়। ফলে—দমবন্ধ ভাব, অস্থির ঘুম, ঘুম ভেঙে যাওয়া ও ক্লান্তি। এ ছাড়া লেপের ভেতরে অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা আটকে গিয়ে মাথার আশপাশ গরম হয়ে ওঠে, যা গভীর ও প্রশান্ত ঘুমের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এতে ঘাম হওয়া, অস্বস্তি বা বারবার জেগে ওঠার প্রবণতাও বাড়ে। কারা বেশি ঝুঁকিতে? সাময়িকভাবে সুস্থ মানুষের বড় সমস্যা না হলেও কয়েকটি গোষ্ঠির ঝুঁকি অনেক বেশি— হাঁপানি বা ফুসফুসজনিত রোগী: বাতাস চলাচল কমলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে। শিশু ও নবজাতক: মুখ ঢেকে ঘুমালে তাদের শ্বাসনিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হতে পারে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি: বাতাসের পথ সংকুচিত হলে তাদের শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। কেন শীতকালে বাড়ে ঝুঁকি? ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস শ্বাসনালীকে উত্তেজিত করে। ঘর বন্ধ থাকায় বাতাস চলাচল কমে যায়। এই মৌসুমে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও বেশি হয়, ফলে ঝুঁকি দ্বিগুণ। মুখ না ঢেকে উষ্ণ থাকার উপায় শরীর উষ্ণ রাখতে মুখ ঢাকাই একমাত্র উপায় নয়। বরং— বাড়তি পোশাক পরুন, কিন্তু মুখ-নাক খোলা রাখুন। ভারী লেপের বদলে মাঝারি লেপ ব্যবহার করুন এবং কাঁধ পর্যন্ত ঢেকে রাখুন। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা থাকলে হিউমিডিফায়ার বা এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। ঘর গরম রাখুন, তবে অতিরিক্ত নয়। সতর্কতার গুরুত্ব শীতের আরামদায়ক রাতেও লেপ-কম্বল মুড়িয়ে ঘুমের লোভ এড়াতে হবে। কারণ স্বল্প অক্সিজেন শরীরের জন্য অনেক বড় ক্ষতি বয়ে আনতে পারে—প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শিশু, সবাইই ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষত নবজাতক, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য মুখ ঢেকে ঘুমানো একেবারেই অনুপযুক্ত। পরিবারে যাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি, তাদের ঘুমের পরিবেশে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। আরাম যতই হোক, স্বাস্থ্যঝুঁকি কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। ডেল্টা টাইমস্/আইইউ |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |