|
অনলাইনে ঝুঁকিতে ৭৭% শিশু, প্রতিবন্ধী সবচেয়ে বেশি!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
|
![]() অনলাইনে ঝুঁকিতে ৭৭% শিশু, প্রতিবন্ধী সবচেয়ে বেশি! সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত জাতীয় কর্মশালায় ‘বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশু এবং শিশুদের অনলাইন যৌন শোষণ প্রতিরোধ’ বিষয়ক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘টেরে দেস হোমস্ নেদারল্যান্ডস (টিডিএইচ-এনএল)’ আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন টিডিএইচ-এনএল’র প্রোগ্রাম কো-অডিনেটর নূরুল কবির। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান, ডিএমপির উপকমিশনার (নারী সহায়তা ও তদন্ত) ফারহানা ইয়াসমিন, ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক, এবং এক্সেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মহুয়া পাল। গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব। তিনি বলেন, অনলাইনে কোন শিশু সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। জরিপে দেখা গেছে, ২৩ শতাংশ শিশু মারাত্মক ঝুঁকিতে, ৮ শতাংশ শিশু আংশিক ঝুঁকিতে এবং ৬৯ শতাংশ শিশু আংশিকভাবে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। ফেসবুক ব্যবহারে ৭৭ শতাংশ শিশু ঝুঁকিতে আছে, ইনস্টাগ্রামে ১৫ শতাংশ শিশু ঝুঁকির মধ্যে এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে শিশুরা নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, একক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। শিশুদেরকে সমস্যা সমাধানের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞতা এবং সমবয়সীদের নেটওয়ার্ক কার্যকর কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। টিডিএইচ-এনএল’র প্রোগ্রাম কো-অডিনেটর নূরুল কবির বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুরা বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে অবহেলিত ও বঞ্চিত গোষ্ঠী। যেখানে বিশ্বে প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী, সেখানে বাংলাদেশের সরকারি হিসাব মাত্র ২.৮ শতাংশ। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়ন, সামাজিক কলঙ্ক এবং অদৃশ্য থাকার কারণে তারা শিক্ষা, চলাচল এবং সমাজজীবনে সমান অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধ। দেশে মাত্র ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিশু আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত। এই বঞ্চনা তাদের অনলাইন জগতে আরও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কম ডিজিটাল দক্ষতা, সীমিত ডিভাইস প্রাপ্যতা এবং প্রতিবন্ধী-বান্ধব নিরাপত্তা নীতির অভাবে তারা অনলাইনে আরও ঝুঁকির মুখে পড়ে। নূরুল কবির বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য ডিজিটাল বিশ্ব বিনোদন, শিখন এবং সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষক ও প্রতিবন্ধী বিশেষজ্ঞ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, যথাযথ উদ্যোগ না থাকায় প্রতিবন্ধী শিশুদের নিরাপদ অনলাইনের সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী অনলাইন ব্যবহারের ঘাটতিগুলো মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিশু সুরক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালায় প্রতিবন্ধী শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীতা কর্মসূচি, ডিজিটাল সাক্ষরতা উদ্যোগ এবং শিশু সুরক্ষা কর্মীদের একসাথে কাজ করতে হবে। শিশুদের কণ্ঠস্বরকে প্রসারিত করতে, কলঙ্ক চ্যালেঞ্জ করতে এবং নীতি ও সম্প্রদায় স্তরে পরিবর্তনের জন্য উন্নয়ন সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, শিশুরা এখনও বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তারা ইন্টারনেটের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ফাঁদে পড়ছে। শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে এগুলো বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য কমিউনিটির অন্তর্ভুক্তি জরুরি এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শিশুদের নিয়ে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো নিয়ে ‘ন্যাশনাল প্ল্যাটফর্ম ফর চাইল্ড প্রটেকশন’ গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, টেরে দেস হোমস্ নেদারল্যান্ডস ‘ভয়েস আইডেন্টিটি’ নামক একটি গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পের আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন যোগাযোগ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক সুরক্ষা এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের অনলাইন যৌন শোষণ বিষয়ক গবেষণা চলছে। জাতীয় পর্যায়ের এই কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল প্রকাশ ও সুপারিশমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সরকারি প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশী উন্নয়ন সংস্থা, প্রতিবন্ধী শিশু, তাদের পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কমিউনিটি ভিত্তিক ফোরামের প্রতিনিধি। ডেল্টা টাইমস্/সিআর/আইইউ |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |