|
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাগ ডে: রঙ, আবেগ আর স্মৃতির উৎসব
সানজিদা আক্তার, খুবি :
|
|
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাগ ডে: রঙ, আবেগ আর স্মৃতির উৎসব চার বছরের বন্ধুত্ব, পরিশ্রম আর স্মৃতির সমাপ্তি যেন এই রঙে রঙে লেখা উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। সেই সকাল থেকেই শুরু হয় তিন দিনের ব্যতিক্রমী র্যাগ ডে। রঙের ছোঁয়ায় শুরু প্রথম দিনের সকালটা বন্ধুত্বের উল্লাসে রঙিন হয়ে ওঠে। কালার ফেস্টে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী। কেউ সাদা পোশাকে ব্যাচের নাম লিখে রাখে, কেউ রঙে সাজায় মুখ ও চুল। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণ ভরে ওঠে হাসি, গান, চিৎকার আর রঙের ঝলকে—যেন এক বিশাল ক্যানভাসে আঁকা হচ্ছে তারুণ্যের গল্প। কালার ফেস্টের পর শুরু হয় বর্ণিল ট্রাক র্যালি। শহরের রাস্তায় একের পর এক ট্রাক ছুটে চলে ব্যানার, থিম ও পোস্টারে সজ্জিত হয়ে। ব্যাচের নাম, স্লোগান আর বছরের স্মৃতি লেখা থাকে প্রতিটি গায়ে। খুলনা শহর যেন একদিনের জন্য হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনন্দে মেতে থাকা অংশগ্রহণকারীর অংশ। দ্বিতীয় দিনের আবেগ দ্বিতীয় দিনটি আবেগ আর স্মৃতিতে ভরা। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জড়ো হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী। শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় প্রোগ্রামের, এরপর চলে স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বক্তব্য ও ক্রেস্ট প্রদান। বড় পর্দায় ভেসে ওঠে ক্লাসের মুহূর্ত, ক্যাম্পাস ট্যুর, উৎসব আর বন্ধুত্বের ছবি। অনেকেই নীরব চোখে মুছে নেয় আনন্দের সাথে মিশে থাকা অশ্রু। মঞ্চে বাজে আবেগময় গান, বক্তৃতার ফাঁকে হাসির শব্দ—পেছনে নীরব দর্শকের মাঝে এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি। সূর্যাস্ত যেন সেই দিনের বিদায়ের মায়া আরও গভীর করে তোলে। তৃতীয় দিন রাত নামতেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ পরিণত হয় আলোকিত মঞ্চে। শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত কনসার্ট। আলো, সাউন্ড ও সুরের মেলবন্ধনে পুরো ক্যাম্পাস ভরে যায় নাচে-গানে। ব্যান্ডের সুরে কেঁপে ওঠে মাঠ, হাততালিতে গর্জে ওঠে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। সবাই নাচে, গায়, হাসে শেষবারের মতো একসাথে। রাত যত গভীর হয়, আবেগের ভার তত বাড়ে। কনসার্ট শেষে কেউ একা দাঁড়িয়ে থাকে মাঠের মাঝখানে, কেউ বন্ধুদের জড়িয়ে ধরে যেন শেষবারের মতো শ্বাস নিচ্ছে প্রিয় ক্যাম্পাসের বাতাস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাগ ডে কেন আলাদা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগ ডে হয় একদিনের আনন্দ, ছবি তোলা আর কনসার্ট। কিন্তু খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি তিন দিনের পূর্ণাঙ্গ উদযাপন। প্রতিটি দিন বহন করে আলাদা অর্থ ও অনুভব।
এ আয়োজনে ফুটে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐক্য, সৃজনশীলতা ও তারুণ্যের সম্মিলিত প্রকাশ। প্রতিটি ডিসিপ্লিন একসঙ্গে অংশ নেয়, যা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল চেতনা—‘শিক্ষা ও ঐক্য’—কে আরও জীবন্ত করে তোলে। র্যাগ ডে শুধু সমাপ্তি নয়, বরং নতুন এক যাত্রার সূচনা। বিদায়ের পরও থাকে আলো তিন দিনের উৎসব শেষে যখন আলো নিভে যায়, ক্যাম্পাসে নেমে আসে নীরবতা। রঙ মুছে যায়, স্টেজ খুলে ফেলা হয়, কিন্তু বাতাসে ভেসে থাকে সেই হাসি, গান ও অসংখ্য স্মৃতির গন্ধ। বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর সম্মানের সেই রঙিন মুহূর্তগুলো চিরকাল বেঁচে থাকে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে। র্যাগ ডে হয়তো শেষ হয় কনসার্টের আলো নিভে গেলে, কিন্তু খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি নিভে না। এটি কেবল বিদায় নয়, বরং এক প্রজন্মের আত্মপরিচয়ের গল্প, যা শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিয়ে রাখে হাসি, রঙ ও ভালোবাসায় আঁকা এক অমলিন জীবনচিত্র। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |