সাধ্যের মধ্যে দরকারি সব ওষুধ, পূর্ণতা পাচ্ছে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্বপ্ন
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম

  ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ফাইল ছবি

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ফাইল ছবি

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (ইডিএল) সম্প্রসারণ এবং এগুলোর মূল্য নির্ধারণের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যয় হ্রাসে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আজীবন লালিত স্বপ্ন নতুনভাবে পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা আগের ১৫৯টি থেকে বাড়িয়ে এখন ২৯৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে আরও ১৩৬টি ওষুধ এই তালিকায় যুক্ত হলো। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের বিষয়টি হলো—এই ২৯৫টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) এখন থেকে সরাসরি সরকার নির্ধারণ করে দেবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সাল থেকে মাত্র ১১৭টি ওষুধের দাম সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এর সুযোগ নিয়ে গত কয়েক দশকে অন্য ১ হাজার ৩০০-এর বেশি ওষুধের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গিয়েছিল। সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ ওষুধের বাজারের সেই একাধিপত্য ও বিশৃঙ্খলা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকার ২৯৫টি ওষুধ দিয়েই প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্ভব। এর ফলে সাধারণ রোগীদের পকেটের ওপর চাপ যেমন কমবে, তেমনি মানসম্মত ওষুধের প্রাপ্যতাও নিশ্চিত হবে। ওষুধকে বিলাসী পণ্য নয়, বরং মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী হলো।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ঔষধ নীতি

১৯৮২ সালে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর হাত ধরে যে ঐতিহাসিক জাতীয় ঔষধ নীতি তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তকে তারই আধুনিক পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বল্পমূল্যে মানসম্মত ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়ন হয়, যার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এই নীতির কারণে বাংলাদেশে ওষুধের দাম শুধু সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আসেনি, বরং বিশ্বের ১৪৭টির মতো দেশে এখন ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।

জাতীয় ওষুধ নীতি, ১৯৮২ সালের ১২ জুন অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়। এর আগে পর্যন্ত ১৯৪০ সালের ওষুধ আইন এবং ১৯৪৬ সালের বেঙ্গল ওষুধ রুল এবং ১৯৭০ সালের বেঙ্গল ওষুধ রুল (সংশোধিত) চালু ছিল। এর আগে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি ওষুধ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এ কারণে সাধারণ রোগের ওষুধ থেকে থেকে শুরু করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম ছিল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

ওষুধ নীতির কারণে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে ওষুধ উৎপাদন শুরু হয়, যার ফলে আমদানি নির্ভরতা কমে আসে, বাংলাদেশ ক্রমেই ওষুধের ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে শুরু করে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]