|
হাকিমপুরে মাদরাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, আদালতে মামলা
দিনাজপুর (হাকিমপুর) প্রতিনিধি:
|
![]() হাকিমপুরে মাদরাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, আদালতে মামলা দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গুমড়া দ্বি-মুখী দাখিল মাদরাসায় চারজন কর্মচারীকে অবৈধভাবে নিয়োগের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি হাকিমপুর সিভিল জজ আদালতে ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীরা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর ০১/২৬। মামলায় মাদরাসার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সুপারিনটেনডেন্ট, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মী রাশেদুজ্জামান লিফাত, নিরাপত্তা কর্মী শাকিল আহমেদ, নৈশপ্রহরী মিনহাজ হোসেন ও আয়া মোস্তারী আক্তার মিতু সহ ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর গোবিন্দপুর গুমড়া দ্বি-মুখী দাখিল মাদরাসায় নৈশপ্রহরী, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদে মামলার বাদী আসাদুজ্জামান তামিম, মৌসুমী আক্তার, সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল ওয়াজেদ পারভেজ আবেদন করেন। আবেদনের পর মাদরাসার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে প্রত্যেকের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীদের উপর ক্ষুব্দ হয়ে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং টাকা ছাড়া চাকরি হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি তিনি টাকা দাও, চাকরি নাও -এই কথা বলতে থাকেন। এজাহারে আরও বলা হয়, কিছুদিন পর নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাওয়ার পর দেখি ১নং বিবাদী সভাপতির বাড়ীর পার্শ্ববর্তী মনসাপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়োগ নির্বাচনী পরীক্ষার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদান করা হবে, সেই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাদীরা নিয়োগ পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য একাধিকবার ১নং ও ২নং বিবাদীকে বললে তারা বাদীদের ভয়-ভীতি দেখান এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে বিবাদীরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বাদীদের সাজা দেওয়ারও হুমকি দেন। এইভাবে তারা বাদীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করান। এমনকি ৮নং থেকে ১১নং (অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা) বিবাদীকে অন্য রুমে বসিয়ে ১নং বিবাদী (সভাপতি) পরীক্ষার আগের দিন রাতে ওই বিবাদীদের কাছে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন এবং ইচ্ছামত বিবাদীদের পক্ষে ফলাফল তৈরী করে অবৈধ ও বে-আইনীভাবে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, এ নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ, বিধিবহির্ভূত ও অকার্যকর। তাঁরা স্বচ্ছভাবে পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোজাহার আলী বলেন, তিনি এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন এবং সভাপতি যেই চারজনের কাছে ৬০ লাখ টাকা নিয়ে অবৈধ ভাবে নিয়োগ দিয়েছে, সেই অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানের অনুমতি দেবেন না। তিনি পুনরায় স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষার পক্ষে মত দেন। অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ছিল। কোনো অনিয়ম বা ঘুষ-বাণিজ্য হয়নি। কেউ প্রমাণ দিতে পারলে তিনি সভাপতির পদ ছেড়ে দেবেন। কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে আমি টাকা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছি, তাহলে আমি সভাপতির পদে থাকবো না। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধি ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, তিনি নিজেই পরীক্ষা নিয়েছেন। পরীক্ষা স্বচ্ছ হয়েছে। তবে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে নিয়োগ বাতিল করা হবে। প্রশ্নপত্র বহিরাগতদের মাধ্যমে ফটোকপি করার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের জবাবে তিনি বলেন, এখানে কম সময়ের ব্যবধান ছিল। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার বিষয় দেখি না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডেল্টা টাইমস্/আইইউ
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |