|
গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বাড়ায় যে তিনটি আমল
ডেল্টা টাইমস্ ডেস্ক:
|
![]() গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বাড়ায় যে তিনটি আমল দুনিয়ার বাস্তবতা ও প্রকৃত সফলতা সফলতা মানে ধন-সম্পদ বা ক্ষমতা নয়, বরং প্রকৃত সফলতা হচ্ছে জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা স্পষ্টভাবে দুনিয়ার বাস্তবতা ও আখিরাতের সফলতার সংজ্ঞা তুলে ধরেছেন এভাবে— كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۖ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণমাত্রায় প্রতিদান দেওয়া হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই প্রকৃতপক্ষে সফলকাম। আর পার্থিব জীবন তো ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৮৫) গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধির তিনটি আমল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে এমন কিছু সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমলের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যা বান্দার গুনাহ মাফ করে এবং আল্লাহর কাছে মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়। হাদিস পাকে এসেছে— أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ؟ قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ، فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ. ‘আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন?’ সাহাবাগণ বললেন, ‘হ্যা’, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)!’ তিনি বললেন— ১. কষ্ট ও অসুবিধা সত্ত্বেও পরিপূর্ণভাবে অজু করা, ২. মসজিদের দিকে বেশি বেশি পদচারণা করা, ৩. এক ওয়াক্তের নামাজ আদায়ের পর পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজের অপেক্ষায় থাকা। এরপর তিনি বলেন, ‘এটাই হলো রিবাত।’ (তিরমিজি ৫১, ইবনু মাজাহ ৪২৮) তিনটি আমলের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য ১. কষ্টের মাঝেও পরিপূর্ণ অজু ঠান্ডা পানি, শারীরিক ক্লান্তি বা ব্যস্ততার মাঝেও সুন্দরভাবে অজু করা আল্লাহর প্রতি বান্দার আন্তরিক আনুগত্যের পরিচয়। অজু শুধু বাহ্যিক পবিত্রতা নয়, এটি অন্তরের গুনাহ ঝরিয়ে দেওয়ার এক মহান ইবাদত। তবে ঠাণ্ডা পানিতে অজু করলে অসুস্থ হওয়ার বা অসুস্থতা বাড়ার মাধ্যমে নিজের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা অবশ্যই বর্জনীয়। ২. মসজিদে যাওয়ার পথে প্রতিটি কদম মসজিদের দিকে প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে নেকি লেখা হয় এবং একটি করে গুনাহ মুছে যায়। এটি ঈমানের শক্তি ও নামাজের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ। ৩. নামাজের অপেক্ষায় থাকা এক নামাজ আদায়ের পর পরবর্তী নামাজের অপেক্ষায় থাকা মানে হৃদয়কে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত রাখা। এটি বান্দাকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে এবং ইবাদতের ধারাবাহিকতা তৈরি করে। ‘রিবাত’—আত্মিক পাহারা নবীজি (সা.) এই আমলগুলোকে ‘রিবাত’ বলেছেন— রিবাত বলতে মূলত নিজেকে আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্যে আটকে রাখা ও শয়তানের মুকাবিলায় নিজেকে প্রস্ত্তত বা ইমানের পাহারায় নিজেকে নিয়োজিত রাখাকে বুঝায়। ইসলাম আমাদের জন্য কঠিন ও দুরূহ পথ নির্ধারণ করেনি; বরং দৈনন্দিন জীবনের মধ্যেই এমন সহজ আমল নির্ধারণ করেছে, যার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। পরিপূর্ণ অজু, মসজিদমুখী পথচলা ও নামাজের অপেক্ষা—এই তিনটি আমল আমাদের আখিরাতকে আলোকিত করতে পারে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ ত্যাগ করে যদি আমরা এসব আমলে অভ্যস্ত হই, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হব, যাদের ঠিকানা হবে জান্নাত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই আমলগুলো বাস্তব জীবনে ধারণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন। ডেল্টা টাইমস্/আইইউ |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |