|
খানাখন্দে ভরা রাস্তায় নাকাল মানুষ: মদনপুর–মদনগঞ্জ–সৈয়দপুর সড়কের করুণ চিত্র
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() খানাখন্দে ভরা রাস্তায় নাকাল মানুষ: মদনপুর–মদনগঞ্জ–সৈয়দপুর সড়কের করুণ চিত্র গাড়ি চালকরা গর্ত এড়াতে গিয়ে কাত হয়ে পড়ে, হঠাৎ ব্রেক দিলে পিছলে যায়, আবার কেউ কেউ খানাখন্দে পড়ে প্রাণহানির মুখে পড়ছে। এ পথ দিয়ে যাত্রা করা মানে প্রতিদিন জীবনকে ঝুঁকির সামনে দাঁড় করানো—যেন ‘নতুন ধরনের ভ্রমণ’ শুরু হয়েছে, যেখানে গন্তব্য নয়, কেবল বেঁচে থাকার প্রার্থনা। সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে ইট, খোয়া এমনকি মাটির নিচের স্তর পর্যন্ত বেরিয়ে এসেছে। কোথাও কোথাও জমে থাকা পানি গর্তগুলোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করেছে। ফলে স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল তো দূরের কথা, অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন—স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা। কিন্তু রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে তারা নির্ভয়ে চলাচল করতে পারছেন না। এর সঙ্গে আছে আশপাশের শিল্প এলাকার কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন। সড়কের বেহাল দশার কারণে শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহারকারী বাস ও ট্রাকচালকরা জানান, খানাখন্দের কারণে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় হঠাৎ ব্রেক দিতে গিয়ে বা গর্ত এড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। তারা বলেন, প্রায়ই সংস্কার করা হলেও রাস্তা বেশিদিন টেকে না। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভারী ট্রাক চলাচলের সময় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ট্রাকচালকরা জানান, ভারী লোডের কারণে রাস্তাটি আরও দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে। যেখানে খানাখন্দ আছে, সেখানে ট্রাকের চাকা পড়ে গেলে পুরো সড়ক এক মুহূর্তেই অচল হয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বারবার সংস্কার করলেও এতে সরকারের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, কিন্তু দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ কমছে না। তাদের মতে, এই সড়কটি নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এটিকে শিল্প এলাকা উপযোগী করে পরিকল্পিত ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা জরুরি। এক ব্যবসায়ী বলেন, ভারী যানবাহনের চাপ বিবেচনায় উন্নত মানের উপকরণ ব্যবহার করে টেকসই সড়ক নির্মাণ করলে বারবার সংস্কারের প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা, যানজট ও মানুষের ভোগান্তিও কমবে। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা আরও জানান, রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ না হলে শীঘ্রই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রবল। তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন সময়মতো প্রকল্প গ্রহণ করে মানসম্পন্ন নির্মাণ করেন। স্থানীয়রা বলেন, সড়ক সংস্কারের নামে প্রতিবারই আংশিক মেরামত করা হয়। কিন্তু রাস্তাটি দীর্ঘদিন টেকসই হবে—এমন কোনো কাজ করা হয় না। ফলে সরকার অর্থ ব্যয় করেও জনদুর্ভোগ কমছে না।” এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিমকে ফোন করলে তিনি পরে কল করবেন বলে ক্ষুদে বার্তা পাঠান; পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি দেখলেও কোনো উত্তর দেননি। ডেল্টা টাইমস্/সিআর/আইইউ |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |