প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ২:৩৬ পিএম (ভিজিট : ১৯৫)

ফাইল ছবি
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসিতে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও স্বেচ্ছাচারিতার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পদোন্নতি, বদলি, বিদেশ প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার ঘাটতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির মান দিন দিন কমছে।
ডিএসইর একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে করে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক কর্মকর্তা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডিএসইর চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মোহাম্মদ আসাদুর রহমান। ২০১০ সালে সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, যখন সার্বিকভাবে পদোন্নতি ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে, তখন কয়েকজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে এসব সফরে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক বদলির সময় গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে, যা পুরো প্রশাসনিক কাঠামোকে একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ডিএসইতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ সিদ্ধান্তই একটি কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এতে করে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য ব্যাহত হচ্ছে।
বিদেশ সফর সংক্রান্ত ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কিছু সফরে প্রয়োজনীয়তা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পরও প্রশাসনিক পরিবর্তনে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইর ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাজার–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডেল্টা টাইমস্/সিআর/আইইউ