|
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনের নজর
ডেল্টা টাইমস্ ডেস্ক:
|
![]() আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনের নজর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোটের খবর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি, আল জাজিরা, দ্য হিন্দুসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম দিনব্যাপী এটিকে প্রধান খবর হিসেবে প্রচার করে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণের সময় অধিকাংশ গণমাধ্যমই লাইভ ব্লগে খবরটি সম্প্রচার করেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরের শিরোনাম ছিল, ‘শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথম নির্বাচনে ভোটারের দীর্ঘ সারি।’ এ ভোটকে ‘যুগান্তকারী’ উল্লেখ করে পটভূমি তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশের নির্বাচন একটি রাজনৈতিক সংকটের পর এসেছে। চাকরিতে বিতর্কিত কোটা ব্যবস্থা নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের ওপর দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হন। অস্থিরতা তীব্রতর হলে এবং সেনাবাহিনী বিক্ষোভ দমনে অস্বীকৃতি জানালে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং ভারতে পালিয়ে যান। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নির্বাচন জেন-জি অনুপ্রাণিত। তরুণ ভোটাররা চাকরি, দুর্নীতির বিরোধিতা ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার জন্য ভোট দিচ্ছেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ১২ কোটির বেশি মানুষ বৃহস্পতিবার ভোট দিয়ে তাদের নতুন নেতা নির্বাচন করেছেন। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এতে বলা হয়, ‘অনেক বাংলাদেশি এটিকে কর্তৃত্ববাদী শাসন ও বিক্ষোভ আন্দোলনের মূল কারণ ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাসহ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।’ বিবিসির লাইভ ব্লগে বলা হয়, ২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী নেত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অভ্যুত্থানের সময় ১ হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারী নিহত হন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সরাসরি দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যদিও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দল আওয়ামী লীগকে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে তারেক রহমানের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির যুগের প্রতিশ্রুতি।’ এতে বলা হয়, ‘লন্ডনে নির্বাসিত অবস্থায় কারাবন্দী তারেক রহমান বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেশে ফিরেছেন। প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৭ বছর নির্বাসনের পর তারেক রহমান দুর্নীতির অবসান এবং দেশকে একটি ‘নতুন পথে’ নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’ আল জাজিরার লাইভ ব্লগে বলা হয়, এ ভোটাভুটি কেবল পরবর্তী সরকার গঠন ও দেশের নেতার বিষয়েই সিদ্ধান্ত নেবে না, বরং সংস্কারের একটি ধারাবাহিকতা নিয়ে গণভোটের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবে। এতে ধারাবাহিকভাবে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর ডা. শফিকুর রহমানের কথা বলা হয়। পাকিস্তানের জিও নিউজে খবরটির শিরোনাম ছিল, ‘২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর যুগান্তকারী ভোটে বাংলাদেশ।’ এতে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে ছিল দীর্ঘ সারি। কঠিন নির্বাচনী লাড়াইয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভারতের দ্য হিন্দু অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। তবে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে আছে। দুপুর পর্যন্ত ৩২ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সংহিসতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ডেল্টা টাইমস্/আইইউ
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |