ওয়েবিনারে বক্তারা
নির্বাচন–নির্বাচন খেলা দেশকে ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দেবে
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৭:২৩ পিএম আপডেট: ২৮.১২.২০২৩ ৭:৩৬ পিএম

নির্বাচন–নির্বাচন খেলা দেশকে ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দেবে

নির্বাচন–নির্বাচন খেলা দেশকে ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দেবে

নির্বাচন–নির্বাচন খেলা দেশকে ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দেবে। যে ধারায় নির্বাচন চলে গেছে, এই প্রক্রিয়ায় এ দেশ কখনও আর সুষ্ঠু নির্বাচন পাবে না। আগামী ৭ জানুয়ারিও এমন হতে যাচ্ছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের নামে নিজেদের স্বতন্ত্র প্রার্থী, ডামি প্রার্থী, অনুগত প্রার্থী আর কিংস পার্টি দাঁড় করানো হয়েছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে সরকার নির্বাচনে শতভাগ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাইছে। যতই উপস্থিতি দেখানো হোক কোনো মহলেই এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সাজানো নির্বাচন ২০২৪ : অতীত নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা কী বলে’ শীর্ষক ওয়েবিনারের আয়োজন করে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ছাত্রদের মধ্যে এখন বিরাজনীতিকরণ চলছে। আগে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দেখা যেত, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন জয়ী হতো না। অন্তত এতটুকু গণতান্ত্রিক ছিল প্রতিষ্ঠান। এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেট্রোরেলে চড়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। পরিকল্পিতভাবে নিরপেক্ষতাকে ধ্বংস করা হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ৭ জানুয়ারি যে কর্মকাণ্ড হবে, সেটাকে নির্বাচন বলা যায় না। একটি দল তাদের বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন–নির্বাচন খেলা খেলছে। এই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। নিজেদের পছন্দমতো লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে প্রবল দলীয়করণ হয়েছে। অসাংবিধানিকভাবে সংবিধান সংশোধন করে দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সামাজিক ভাতা কার্ড নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, ভয়ের সংস্কৃতি দেখা দিয়েছে। সামাজিক নেতৃত্বের সংকট চলছে। নাগরিক সমাজকেও খুব বেশি প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছে না। অন্যায় সহ্য করতে করতে অনাচার এই পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। নির্বাচনের নামে যা হচ্ছে, তা একতরফা ও জবরদস্তিমূলক। এটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নয়। একটা অংশকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হতে পারে না। সোহরাব হাসান বলেন, সমস্যা সমাধানে বিকল্প খুঁজে বের করা দরকার।

ব্রতীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শারমীন এস মুরশিদ বলেন, দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, তাদের বিভিন্ন দলের মুখপাত্র হিসেবে তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর সংস্থাকে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে দেওয়া হয়নি। এখন নামসর্বস্ব পর্যবেক্ষকদের দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করানো হয়। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনেরা সত্যের সম্মুখীন হতে চান না। যে ধারায় নির্বাচন চলে গেছে, এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ দেশ কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন পাবে না। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের ভবিষ্যৎও অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি স্পেশালিস্ট সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, আগের জাতীয় নির্বাচন ত্রুটিমুক্ত না হলেও এখনকার চেয়ে ভালো ছিল। তিনি বলেন, নানা প্রশ্ন উঠছে যে বাংলাদেশ কি স্বাধীন, সার্বভৌম, শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকবে? দেশকে কি উত্তর কোরিয়া, সিরিয়ার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে? ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য যদি দেশকে যেকোনো দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে তা খারাপ পরিণতি ডেকে আনবে।

ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন গণতন্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে। সরকারের কোনো জবাবদিহি নেই। সরকার জনগণের জন্য নয়, বাইরের যে শক্তি তাদের ক্ষমতায় রাখছে, তাদের সহযোগিতার কাজ করছে। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মনির হায়দার।

ডেল্টা টাইমস/সিআর/জেএইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]