
“পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায়/ ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা; সে কি ভোলা যায়?/ আয়, আরেকটিবার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়/ মোরা সুখের-দু:খের কথা কব, প্রাণ জুড়াবে তায়।” কবিগুরুর এই গানের লাইনগুলো যেন প্রত্যেকের জীবনে এক অমোঘ সত্যি। বন্ধুত্ব! স্কুল,কলেজ, পাড়া মহল্লা সব মিলিয়ে এক জীবনে অসংখ্য বন্ধুত্ব তৈরি হয়। অনেককে মনে থাকে, আবার অনেকেই স্মৃতির পাতায় হারিয়ে যায়। তবে এর মাঝে যদি এমন কোনো আয়োজন হয় যেখানে আবার সবাই চোখের দেখা দেখতে, প্রাণের কথা বলতে একসাথে হওয়া যায় সে তো সবার জীবনের পরম আনন্দের মুহূর্ত। এমন মুহুর্তেরই স্বাক্ষী হলো পাবনা জেলার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ।
পাবনা জেলা এবং সমগ্র বাংলাদেশে এতিহ্যবাহী শতাব্দী প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিতর অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ। ব্রিটিশ আমলে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি বিভাগে রয়েছে ইতিহাসের ঘ্রাণ। কলেজটি ১৯৮৯ সালে গোপাল চন্দ্র লাহিড়ীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করে। এটি পূর্ণাঙ্গ কলেজে রূপ নেয় ১৯১১ সালে। কলেজটিতে ব্যবস্থাপনা বিভাগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭২ সালে। পৌষের শীতের রৌদ্র ঝলমলে এক দিনে শুক্রবার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৫০ বছর পুর্তিতে পালিত হলো রজত জয়ন্তী। সারাদিন অসংখ্য ছাত্রছাত্রী আর শিক্ষকের পদচারণায়, আনন্দ উচ্ছাসে মুখর ক্যাম্পাস। দিনব্যাপী নানা ধরনের আয়োজন করে ব্যবস্থাপনা বিভাগ। দিনের শুরুতেই ‘উচ্ছ্বাসে উল্লাসে, নতুন আলোর উদ্ভাসে’ স্লোগানে দিকে উপহারসামগ্রী বিতরণ এবং এরপর আনন্দ শোভাযাত্রা দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। তখনও বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের সব ছাত্রছাত্রী এসে পৌছাতে পারেনি। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছে দুরন্ত প্রাণের টানে বন্ধুদের সাথে আরও একবার মিলিত হতে। নবীন প্রবীন সব মিলিয়ে এক উৎসবের মহামিলনে পরিণত হয়েছিল এডওয়ার্ড কলেজ।
১৮ বছর আগে ছেড়েছি এই ক্যাম্পাস, এই মাটি, ঘাস-জল। এই দীর্ঘ বছর পর আবার এখানে সবাইকে পাবো সে তো ছিল ভাবনার অতীত! আর তাই দিন শেষে সবার মুখ আবার মলিন। আবার কার সাথে কবে দেখা হবে তার তো কোনো ঠিক নেই। শেষ বিকেলে সবার মুখে সেই ফিরে যাওয়ার বেদনা। সব পাখিই তো নীড়ে ফিরে। আমরাও ফিরে এসেছি। তবে আবার এভাবে দেখা হবে এই প্রত্যয় সাথে নিয়ে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই