
নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা আবারও জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই শিক্ষকরা বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৫০০০-এর বেশি নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী নিঃশর্তভাবে কাজ করছেন। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে আজ সেই শিক্ষার্থীরা দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছে। অথচ সেই শিক্ষকদের অনেকেই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শূন্য হাতে অবসরে যাচ্ছেন। এটি কেবল ব্যক্তিগত দুঃখ নয়, এটি শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানগুলিকে এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত রেখে শিক্ষক ও শিক্ষার প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। ২০১৮ ও ২০২২ সালে আগে কিছু অসম নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিও প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নীতিমালার বাইরে গিয়ে শত শত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়ায় সেই নীতিমালার কার্যকারিতা প্রায় শূন্যে নেমে আসে। এর ফলে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষক ও কর্মচারীর প্রাপ্য সম্মান ও বেতন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, এমপিওভুক্তির নীতিমালা শিক্ষার্থীর পড়াশোনার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষক-পেশার মর্যাদা রক্ষার জন্য জরুরি। রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা না পেলে শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে চলা চাকরির অনিশ্চয়তায় পড়ছেন। এতে শিক্ষকরা তাদের জীবনধারণে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে প্রগতির গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মানবিক আবেদন নিয়েও বারবার রাজপথে নেমে তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, যা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এখন দেশের সবাই আশা করছে, “স্বীকৃতিই এমপিওভুক্তির একমাত্র মানদণ্ড” নীতিকে সামনে রেখে দ্রুত সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির ঘোষণা করা হবে। এটি শুধুমাত্র শিক্ষক-কর্মচারীর মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে না, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ করবে, শিক্ষার্থীর শিক্ষা মান উন্নত করবে, বরঞ্চ সরকারের ভাবমূর্তিকে আরও দৃঢ় করবে। ন্যায্যতা ও স্বীকৃতির ভিত্তিতে গ্রহণ করা পদক্ষেপগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
এখন সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। রাষ্ট্রের কাছে এটি একটি সুযোগ, যেখানে শুধু ন্যায় নিশ্চিত করা হবে না, বরঞ্চ শিক্ষার প্রতি সরকারের অঙ্গীকারও দৃঢ়ভাবে প্রদর্শিত হবে। শিক্ষকরা ন্যায্য বেতন, ভাতা ও সম্মানের অধিকার পেলে তাদের উদ্যম বৃদ্ধি পাবে, এবং শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
লেখক: প্রধান শিক্ষক,মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কাহারোল, দিনাজপুর।
ডেল্টা টাইমস্/মো. মোকারম হোসেন/আইইউ