বিসিবির নতুন দুই সহকারী নির্বাচক
সাহসের সঙ্গে কাজ করতে চান নাদিফ, নাঈমের মতে সমালোচনা থাকা স্বাভাবিক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৪ এএম (ভিজিট : ৬০)
 ফাইল ছবি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন নির্বাচক প্যানেল গঠিত হয়েছে। যেখানে হাবিবুল বাশার সুমনকে প্রধান নির্বাচক করে গতকাল (সোমবার) বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে চার সদস্যের নির্বাচক প্যানেল গঠনের ঘোষণা দেয়। যদিও আগে থেকেই প্যানেলে সহকারী নির্বাচক হিসেবে ছিলেন হাসিবুল ইসলাম শান্ত। নতুন করে সহকারী নির্বাচক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন নাদিফ চৌধুরি এবং নাঈম ইসলাম।
আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবে এই নির্বাচক প্যানেল। নতুন দায়িত্ব পেয়ে নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন নাদিফ চৌধুরি এবং নাঈম ইসলাম। খেলোয়াড় বাছাইয়ের কাজে আগের অভিজ্ঞতা থাকলেও, প্রথমবার জাতীয় দলের নির্বাচক হওয়া প্রসঙ্গে নাদিফ বলছেন, ‘অনুভূতি অবশ্যই ভালো। দায়িত্ব কিছুটা বাড়ল, আগের চেয়ে প্রেশারও। এতদিন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে কাজ করেছি। এবারের জবটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং। ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমাকে নিয়েছে। এই সময়টার মধ্যে আমাকে প্রমাণ করতে হবে। ভালো করতে পারলে অবশ্যই নিজের কাছে ভালো লাগে। (লক্ষ্য) মেইনলি দেশের ক্রিকেটের খেলা উন্নত করা।’
ক্রিকেট ক্যারিয়ার লম্বা না হওয়ায় হতাশা থাকলেও, নতুন ভূমিকায় সফল হওয়ার লক্ষ্য নাদিফের, ‘আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার লম্বা না হওয়ার জন্য আমি নিজেই দায়ী। যদি তখন আরও সিরিয়াস হতাম তাহলে (ক্যারিয়ার) আরও লম্বা হতো, নিজের কিছু গাফিলতি ছিল। আমি আশা করি নির্বাচকের জায়গাটায় কাউকে হতাশ করব না। আমি শেষ দেড় বছর বয়সভিত্তিক দলে কাজ করেছি, অনেক কিছু শিখেছি। আমি এই কাজটা উপভোগ করি, দায়িত্ব ও সততার সঙ্গেই করি।’
নিজে সুযোগ কম পেলেও জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া কাউকে দ্রুতই ঝেড়ে ফেলার পক্ষপাতী নন নতুন এই নির্বাচক, ‘ক্রিকেটার তুলে আনার ক্ষেত্রে এক দুই ম্যাচ দেখেই আসলে জাজ করা কঠিন। জাতীয় দলে আসার আগে অবশ্যই কয়েক বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করতে হবে। দলে আসার পরে যদি এক-দুই ম্যাচ খারাপ করে তখন যদি বাদ দিয়ে দিই, তাহলে তো হলো না, এটা আসলে যথেষ্ট হবে না।’
‘যদি কোনো ক্রিকেটারের ট্যালেন্ট বেশি থাকে, দলকে সার্ভিস দেওয়ার ক্ষমতা থাকে তাহলে বেশি সুযোগ পাবে। অবশ্য সব তো একার কথায় হবে না, সিলেকশন কমিটি আছে তারা দেখবে সবাই মিলে। নাঈমের সঙ্গেও কিছুটা ইনজাস্টিস হয়েছিল, সে এখন সিলেক্টর হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে আরও লম্বা (ক্যারিয়ার) হতে পারত তার। এজন্য আমি চিন্তা করি একজন ক্রিকেটারকে যখন জাতীয় দলে ডাকা ,তার ভেতরে কিছু থাকে। হুট করেই যদি আবার বাদ দিয়ে দিই, তখন আসলে আমাদের সিলেকশন নিয়েই কথা হবে’, আরও যোগ করেন নাদিফ।
নির্বাচকদের বেশ সমালোচনা হয় দাবি করে সাহস নিয়ে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার, ‘আমাদের দেশে ক্রিকেটের ফ্যান-ফলোয়ার কিন্তু অনেক বেশি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও অনেক একটিভ দর্শকরা। ওই জিনিসটা হ্যান্ডেল করার মতো শক্তি অবশ্যই রাখতে হবে। আমরা সবাই জানি এই নির্বাচকের চাকরি আসলে থ্যাংকসলেস জব। আমি এখানে সবাইকে খুশি রাখতে পারব না, এটা নরমাল একটা বিষয়। ভুল অনেক সময় হতে পারে দেখা গেল আমি আজকে নিলাম না দু’দিন পর সে ভালো ক্রিকেট খেলল। তবে এগুলো আসলে বুঝতে হবে আমাদেরকে। মানসিকভাবে প্রস্তুত, সাহস নিয়ে আসলে কাজ করতে হবে।’
জাতীয় দলের নতুন নির্বাচক প্যানেল গঠিত হয়েছে ৪ সদস্য নিয়ে। যেখানে ভালো সমন্বয় হতে পারে বলে মনে করেন নাদিফ, ‘আমাদের নির্বাচক প্যানেলটা মনে হচ্ছে অবশ্যই খুবই ভালো হয়েছে। শান্ত ভাই আগে থেকে কাজ করছে, সুমন ভাই আট বছর কাজ করেছে। নাঈম যথেষ্ট অভিজ্ঞ, আমার মনে হয় একটা ভালো কম্বিনেশন হয়েছে খারাপ হবে না।’
অন্যদিকে, লম্বা সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকলেও, দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নাঈম ইসলাম ছিলেন দুর্বার। বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে। এখন তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন নতুন ক্রিকেটারদের কাছে। খেলা ছাড়ার আগেই পেলেন নির্বাচকের দায়িত্ব। তবে দ্রুতই অবসরের সিদ্ধান্ত জানাবেন নাঈম। তিনি বলেন, ‘যখন নির্বাচক নিয়ে কথা হচ্ছিল, ততক্ষণ ওভাবেই কথা হচ্ছিল যে নির্বাচক যদি হতে পারি তাহলে অবসর নিয়ে কথা হবে। তখন আর খেলা হবে না, খেলা তো একদিন না একদিন ছাড়তেই হতো। এখন বড় একটি দায়িত্ব পেয়েছি যেটা কাজে লাগাতে চেষ্টা থাকবে। আলহামদুলিল্লাহ একটা সুযোগ আসলো।’
কাজ করতে গেলে সমালোচনা হবে– সেটা মেনে নিয়ে আগাতে চান নাঈম, ‘এটা অবশ্যই বড় একটা পোস্ট একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জের বিষয় রয়েছে। আপনি যখন বড় কোনো পদে যাবেন তখন আপনার চ্যালেঞ্জটা কিন্তু থাকবেই। আর কাজ করতে গেলে আলোচনা বা সমালোচনা হবেই, এটা খুবই নরমাল জিনিস।’
দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভিন্ন মত থাকবে এবং প্যানেল বড় হওয়ায় সুবিধা দেখছেন এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার, ‘আপনাদের এক ধরনের মত থাকবে, আমাদের এক ধরনের মত থাকবে, দর্শকদের এক ধরনের মত থাকবে। এখন আমি কী কারণে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি এটা যদি আমি ব্যাখ্যা করতে পারি, তখন এটা সবার জন্য বুঝতে সহজ হবে আরকি। আমার মনে হয় প্যানেলটা বড় হয়ে সুবিধা হয়েছে। আপনি যদি এনসিএল দেখেন বা বিসিএল দেখেন কয়েকটি মাঠে একসঙ্গে খেলা চলে। ঢাকা লিগেও কয়েকটি মাঠে খেলা চলে। যখন আপনার প্যানেলের লোক বেশি থাকবে, তখন কিন্তু আপনার (পর্যবেক্ষণটা) সহজ হবে, কাজেও সেই সুবিধাটা থাকবে।’
যদিও ক্রিকেট ক্যারিয়ারে খেলার বাইরে নির্বাচক হওয়ার কখনও ভাবনা ছিল না নাঈমের, ‘কখনও এভাবে চিন্তা করা হয়নি নির্বাচক হব বা কি হব না। শুধু খেলা নিয়ে চিন্তা ছিল সবসময়, পরে এখন যখন একটা সুযোগ আসলো ভালো করার লক্ষ্য থাকবে। এখন দায়িত্ব পাওয়ার পর ভালো লাগতেছে। নির্বাচকের চাকরি একটা সম্মানীয় চাকরি। অনেক দায়িত্ব রয়েছে, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার একটা বিষয় রয়েছে।’
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
|