বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনার নেপথ্যে কী আছে

রায়হান আহমেদ তপাদার:

মতামত

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। কয়েক দিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে। দুই দিনের

2025-12-24T10:36:48+00:00
2025-12-24T10:36:48+00:00

বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনার নেপথ্যে কী আছে
রায়হান আহমেদ তপাদার:
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৬ এএম   (ভিজিট : ৬২২)
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। কয়েক দিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে। দুই দিনের ব্যবধানে দুই দেশের হাইকমিশনারকে তলবের ঘটনা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির আবহ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেভাবে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল, দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর ক্ষেত্রে সেভাবে ঘটেনি। প্রণয় ভার্মাকে আগের দিন তলবের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু  বাংলাদেশ হাইকমিশনে ফোন করে ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে রিয়াজ হামিদুল্লাহকে দিল্লির জওহরলাল নেহরু ভবনে অবস্থিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। ১৬ মাস ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনে বিশেষ করে ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সেই সম্পর্কে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গত দেড় দশকে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক যে উচ্চতায় পৌঁছানোর কথা বলা হতো ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে পতন হয়েছে সেই সম্পর্কের। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক মোটামুটি সচল থাকলেও ভিসা বন্ধ। জনসাধারণ পর্যায়েও সম্পর্কের একটা বড় অবনতি হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের ভারত বিরোধী একটা অবস্থান এবং এর প্রকাশ দেখা গেছে। ভারতের সেভেন সির্স্টার্সকে টার্গেট করে বক্তব্য, হুঁশিয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার হওয়ায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভারতে। পাঁচই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে পতিত শাসকদলের অনেক নেতাকর্মী ও হাসিনা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার আশ্রয় মিলেছে।ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর অল্প ক’দিন নীরব থেকে শেখ হাসিনা অডিও-ভিডিও রেকর্ড ও অনলাইনে সমানে বাংলাদেশ নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। 
ঠিক এ সময়ে বাংলাদেশে হাসিনার দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনামলে হত্যা, গুম, জঙ্গি নাটক ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ইস্যু এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিবেচ্য বিষয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পতিত প্রধানমন্ত্রীকে বিচারের মুখোমুখি করতে দিল্লির কাছে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেয়ার এই চিঠি ঢাকার পক্ষ থেকে পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে ভারতের পররাষ্ট্র দফতর। সঙ্গত কারণে আলোচনা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশটি বাংলাদেশে রাজনীতির কেমন বিন্যাসে কাজ করছে।ভারতের জনগণ ও রাজনৈতিক এলিটদের মধ্যে এক ধরনের বিভাজন রয়েছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সামরিক ও গোয়েন্দা নীতি-প্রণেতাদের চাওয়াই দেশটির নীতিপদক্ষেপে রূপ নেয়। তফসিল ঘোষণার পর শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনের বিপক্ষে বক্তব্য-বিবৃতি প্রচার করা হয়। বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপে ভারতের ভূখণ্ড কখনোই ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে ভারতের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে।শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে-বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে ভারত তা প্রত্যাশা করে। গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক কি নতুন এক পর্বে যাচ্ছে? অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্টভাবে বলে আসছে, অত্যন্ত উঁচু মানের নির্বাচন করতে চায়। মানুষ যেন ভোট দিতে যায়, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। এমন পরিবেশ গত ১৫ বছর ছিল না। ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী। বাংলাদেশ এবং ভারত একটি ৪,১৫৬.৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানা ভাগাভাগি করে, এটা বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম ভূমি সীমানা। 

দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আছে বন্ধুত্ব এবং টানাপড়েন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক সবচেয়ে শীতল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই সম্পর্কের অবনতি কারও জন্যই ভালো না। বর্তমান পরিস্থিতি দুই দেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক নির্ভরশীল। বাংলাদেশকে যেমন অনেক বিষয়ে ভারতের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি ভারতও বাংলাদেশের ওপর নানাভাবে নির্ভরশীল। ভারতে অস্থিরতার প্রভাব যেমন বাংলাদেশে পড়ে তেমনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার আঁচ ভারতেও লাগে। এ কারণেই দুই দেশের পারস্পরিক সম্মানজনক সম্পর্ক জরুরি। একটা কথা সব সময় মনে রাখতে হবে, সবকিছু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী বদল করা যায় না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা করে কোনো দেশ কাক্সিক্ষত উন্নতি করতে পারে না। আমরা যদি বিশ্বের দিকে তাকাই, তাহলে দেখব, সেসব দেশ বিশ্বে সফল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে, তারা সবাই প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা, মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। আবার অনেক সম্ভাবনাময় দেশ প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে না পারার কারণে নানা সমস্যায় জর্জরিত। রাশিয়া-ইউক্রেন তার সবশেষ প্রমাণ। তাই প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্কের কোনো বিকল্প নেই। এটা বাংলাদেশের জন্য যেমন প্রযোজ্য তেমনই ভারতের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা অনস্বীকার্য। কিন্তু ভারতকে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এই উপমহাদেশে ভারত সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র। এ জন্যই তাদের মধ্যে সব সময় একটা আধিপত্যবাদী মনোভাব কাজ করে থাকে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। ভারতের এই দাদাগিরির জন্যই প্রতিবেশীদের সঙ্গে টানাপোড়েন হয় বলে অনেকে মনে করেন। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপের অভিযোগও ওঠে। 

ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ থেকে ভারতকে অবশ্যই মুক্ত হতে হবে। কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নয় বরং বন্ধুত্বের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের মন জয় করতে হবে ভারতকে। বাংলাদেশের পরিবর্তিত বাস্তবতা ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে। এ দেশের মানুষের মনোভাব বুঝতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ভালো হবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের সর্বমহলকে সংযত এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলকথা হলো, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। সব ধরনের উসকানির বিরুদ্ধে আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়, যা অন্য রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে গণ্য হয়। প্রধান উপদেষ্টা সব সময় বলেন, বাংলাদেশ শান্তির পক্ষে। সহিংসতার বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড কখনোই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভয়ারণ্য নয়। প্রতিবেশী দেশটি নিজেদের সব ধরনের এসেট ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলতে এবং পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র কার্যত অচল করে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনে সরকারের প্রতি অসহযোগিতার প্রবণতা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি করছে। প্রতিবেশী দেশের সর্বব্যাপী কৌশল মোকাবেলা করতে কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স জোরদার করতে হবে। তাদের গোপন কার্যক্রম শনাক্ত ও প্রতিহত করতে গোয়েন্দা ক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রোপাগান্ডা এবং ভারতের অ্যাসেট ও তাদের স্বার্থ রক্ষাকারীদের চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করতে হবে। আন্তর্জাতিক জোট তৈরি ও পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল সব বৃহৎ আন্তর্জাতিক শক্তির সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করতে হবে। একই সাথে জাতিসঙ্ঘ, কুয়াড ও ইইউসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতীয় প্রোপাগান্ডার জবাব দেয়া দরকার। আমাদের মনে রাখতে হবে, জাতীয় ঐক্য যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ। 

ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের সবচে উদ্বেগের বিষয় হলো ভারত-বাংলাদেশ জনগণের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতির দিকটি।সার্বিকভাবে দুদেশের সম্পর্কের গতি প্রকৃতি এখন নেতিবাচক বার্তাই দিচ্ছে। একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আমাদের জন্য দরকার একইভাবে ভারতের জন্য দরকার। কারণ বাংলাদেশকে ঘিরে তার নিরাপত্তার বিষয় আছে, তার ব্যবসা বাণিজ্য আছে, তার বিনিয়োগ আছে তার ভূরাজনীতি আছে। সবগুলো ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ যদি তার সঙ্গে সহযোগী না হয় বা সহযোগিতা না করে তাহলে সেগুলো ভারতের জন্যই নতুন করে জটিলতা তৈরি করবে। এই বাস্তবতার আলোকেই বাংলাদেশ এবং ভারতের দুই দেশের নেতৃবৃন্দের এই উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় হওয়া দরকার।

নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তাসহ নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এহেন বাস্তবতায় দেশকে অস্থিতিশীল করে নেপথ্যের কুশীলবরা নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বানচাল করতে চায়। ভারত বিরোধিতার নামে অহেতুক হুমকি ও উস্কানি দিয়ে কেউ তাদের হাতে বাড়তি সুযোগ এনে দিতে চাইলে, তা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। বাংলাদেশ ভারতের মতো বৃহৎ প্রতিবেশীর সাথে বৈরী সম্পর্ক চায় না। স্থিতিশীল ও আস্থাপূর্ণ সুসম্পর্ক উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার উপর নির্ভর করে। হুমকি, উস্কানির মধ্য দিয়ে তা অর্জন করা সম্ভব নয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, নির্বাচন ও জাতীয় রাজনীতির এই ক্রান্তিকালে যারা অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তাদেরকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ভারতের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট, যুক্তরাজ্য।

ডেল্টা টাইমস/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর/এমই









  সর্বশেষ সংবাদ  

  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]