বদলের বার্তায়...পরিবর্তনের পালা
রেহানা ফেরদৌসী:
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৭ এএম

বদলের বার্তায়...পরিবর্তনের পালা

বদলের বার্তায়...পরিবর্তনের পালা

(গদ্য কবিতা)
এখন আমি আর গুছিয়ে সংসার করি না...

এক সময় আমি খুব সুন্দর করে গুছিয়ে মন দিয়ে সংসার করতাম। কাজে আনাড়ি হওয়া সত্ত্বেও চেষ্টা করে যেতাম। কিন্তু যখন আমি বুঝেনিলাম...যার সাথে আমার এই সংসার..তার এই সংসারের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই...তখন থেকে আর সংসার গুছিয়ে করি না।

এখন আমি আর রান্নায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি না। আগে রান্নার শুরুতে ভাবতাম..কেমন করে এতে এক অনন্য স্বাদ আনা যায়। ভাবতাম..সে এসে আমার রান্নার প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন থেকে বুঝে নিলাম, রান্না যেমনই হোক তাতে তার প্রশংসা কখনোই পাওয়া যাবে না...তখন থেকে আমি যতনে রান্না করা ছেড়ে দিলাম।

এখন কিন্তু আমি ওর জন্য আর নিজেকে সাজাতে বসি না। আগে সাজতে বসলে...হাত কাঁপতে থাকতো। মনে হতো, এই বুঝি ও পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলবে, তোমায় পরীর মতো লাগছে! হাত ভরে কাঁচের চুড়ি পড়ো, চুলে লাল গোলাপ গুঁজে দিয়ে বলবে...এই বার বেশ লাগছে! কিন্তু এখন আমি বুঝি, ওর তো আমায় দেখার ইচ্ছে নেই! তখন থেকে আমি শুধু আমার জন্য নিজেকে সাজাই।
এখন আর এগুলো নিয়ে কথা বলতে বা প্রশ্ন করতেও ভালো লাগে না। আগে মনে কোন প্রশ্ন বা কিন্তু আসলেই তাকে জিজ্ঞেস করতাম। বার বার সে বিষয় জানতে চেয়ে অভিমানের চূড়ায় নিজেকে তুলে রাখতাম। কিন্তু এখন আমি জানি, অভিমান ভাঙানোর মতো কেউ নেই আমার পাশে, কেউ নেই যে আমার ভেজা চোখে আকাশ পানে চেয়ে থাকা দেখে...পাশে এসে দাঁড়াবে..বলবে,“কি নিয়ে এতো দুশ্চিন্তা তোমার! আমি আছি তো!”

ছোটবেলা থেকেই আমি খুব হাস্যজ্বল একজন মানুষ। অফিস থেকে সে বাসায় ফিরতেই আমি সারাদিনের গল্প নিয়ে বসতাম। অনবরত বলতেই থাকতাম...অবেগহীন শ্রোতার কাছে সব বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে এক পর্যায়ে অনুধাবন করলাম...আমার আবেগগুলো তার কাছে সস্তা গল্পের মতো, তখন আমি কথা বলা বন্ধ করে দিলাম। শুধু দেখতাম, পৃথিবীর সবার প্রতিটি কথা শোনার মতো বিমুগ্ধ এক শ্রোতাকে, যার কাছে আমার কথা...মূর্খতার প্রলাপ। এখন অবশ্য আমি বিশেষ কারণ ছাড়া কোন কথা বলি না, আর প্রতুত্তর!

বাহিরে ঘুরে বেড়াতে, ছবি তুলতে আমার খুব শখ ছিলো। প্রকৃতির সাথে মিশে, পাখির কলতানে তার কাঁধে মাথা রেখে চুপটি করে বসে থাকবো...এমন অনেক স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু যখন অনুভব করলাম...আমার হাতে হাত রেখে, দু’পা মিলিয়ে হাঁটতে ওর আর ভালো লাগে না, তখন থেকে তার সাথে বাহিরে যেতেই আমার আর ভালো লাগে না। তার পাশে কেমন যেনো একটা অস্বস্তি অনুভূত হয়, বিব্রত লাগে। রাস্তার অপরিচিত মানুষ অতিক্রম করে গেলেও এতোটা বিব্রত বোধ করি লাগে না যতটা না তার সাথে প্রয়োজনে বের হলে...যেমনটি অনুভূত হয়।

নিজের এই পরিবর্তনে আমি লজ্জিত নই বরং আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ...কেননা সে আমায় শিখিয়েছে...কিভাবে একা নিজের পথ তৈরি করতে হয় এবং সে পথে দৃঢ় ভাবে এগিয়ে যেতে হয়।

জীবনে সম্ভাবনার সকল পথ বন্ধ হয়ে গেলে...মানুষ হয়ে পড়ে নিঃসঙ্গ, দ্বিধাগ্রস্থ। শূন্যতা ঘিরে ফেলে তার চারিপাশ। কিন্তু সে শূন্যতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলা যাবে না। নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করতে হবে...প্রতিক্ষার একটি জানালা কোথাও না কোথাও রয়েছে উন্মুক্ত॥

লেখক: সহ সম্পাদক,সমাজকল্যাণ বিভাগ, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ডেল্টা টাইমস/রেহানা ফেরদৌসী/সিআর/এমই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]