মশার কামড়েই মৃত্যুঝুঁকি: ডেঙ্গু থেকে বাঁচার সহজ উপায়

এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন

লাইফস্টাইল

ডেঙ্গু এক ধরনের ভাইরাসজনিত মশাবাহিত রোগ, যা এডিস মশার মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়ায়। বর্তমানে এটি শুধু বাংলাদেশ নয়,

2025-10-07T16:46:16+06:00
2025-10-07T16:46:16+06:00
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

মশার কামড়েই মৃত্যুঝুঁকি: ডেঙ্গু থেকে বাঁচার সহজ উপায়
এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:৪৬ পিএম   (ভিজিট : ৬৫৩)
ডেঙ্গু এক ধরনের ভাইরাসজনিত মশাবাহিত রোগ, যা এডিস মশার মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়ায়। বর্তমানে এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, ডেঙ্গু ভাইরাসের পাঁচটি সেরোটাইপ রয়েছে—DEN-1, DEN-2, DEN-3, DEN-4, ও DEN-5। সাধারণত একজন মানুষ একবার আক্রান্ত হলে সেই সেরোটাইপের বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, কিন্তু অন্য সেরোটাইপে পুনরায় আক্রান্ত হলে রোগটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

🔍 ডেঙ্গুর লক্ষণ

ডেঙ্গুর উপসর্গ সাধারণত হঠাৎ করেই দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে উচ্চমাত্রার জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধির ব্যথা, বমি, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়।

কিছু ক্ষেত্রে রোগীরা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (DHF) বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে (DSS) আক্রান্ত হন, যা জীবন-সংকটজনক। এসব অবস্থায় রক্তক্ষরণ, নিম্ন রক্তচাপ এবং অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

🧪 ডেঙ্গু শনাক্তের উপায়

ডেঙ্গু শনাক্তে রক্ত পরীক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত

NS1 অ্যান্টিজেন টেস্ট,

IgG/IgM অ্যান্টিবডি টেস্ট, এবং

প্লাটিলেট কাউন্ট করা হয়।

প্লাটিলেট সংখ্যা কমে গেলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হতে পারে, তাই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি।

💊 চিকিৎসা ও যত্ন

ডেঙ্গুর এখনো নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন নেই। তাই চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক।

জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয় (অ্যাসপিরিন নয়)।

প্রচুর পানি, ওরস্যালাইন বা তরল খাবার খাওয়া জরুরি, যাতে শরীর পানিশূন্য না হয়।

জটিলতা দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত।

🌿 প্রতিরোধই মূল

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এজন্য—

বদ্ধ পানির স্থান যেমন ফুলের টব, পুরনো টায়ার, ভাঙা বোতল ইত্যাদি পরিষ্কার রাখতে হবে,

নিয়মিত বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে,

ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে,

এবং শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরতে হবে।

সরকারি পর্যায়ে ফগিং ও কীটনাশক ছিটানোর পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

🏙️ ঢাকায় ডেঙ্গুর পরিস্থিতি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, ঘনবসতি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে শহুরে নাগরিকদের জীবনযাত্রায় ডেঙ্গু এখন একটি স্থায়ী উদ্বেগের নাম।

🌈 শেষ কথা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই হতে পারে একমাত্র সমাধান। নিজের আশপাশ পরিষ্কার রাখুন, মশার কামড় থেকে বাঁচুন, এবং নিরাপদ জীবনযাপন করুন—কারণ প্রতিরোধই ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ।


ডেল্টা টাইমস্/এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন/আইইউ









  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ